কাঁকড়াবুনিয়া কেন্দ্রে দুর্যোগ ও নারী অধিকার বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

kak ap 2

বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ এডুকেশন সোসাইটি (বিএফইএস) কর্তৃক পরিচালিত কাঁকড়াবুনিয়া আইসিটি অ্যান্ড কমিউনিটি ক্লাইমেট কেযার সেন্টারের উদ্যোগে ২৪ মে ২০১৫ইং তারিখ সকাল ১১টায় কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে ক্লাইমেট কেয়ার সেন্টারে কমিউনিটি লোকদের নিয়ে দুর্যোগ ও নারী অধিকার বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন ২২ জন সদস্য।

সভায় আলোচনা করেন, রামপাল উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, দিলারা খানম। প্রথমে তিনি সকলের সাথে কুশল বিনিময় করে বলেন, দূর্যোগ আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত করে দ্য়ে। বর্তমানে আমাদের এলাকার মানুষ বিভিন্ন দূর্যোগের মধ্যে আছে। অতিরিক্ত তাপদাহর ফলে ডাইরিয়া, চর্মরোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগ দেখা যাচ্ছে। এদিকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাঁটার ফলে এলাকায় বেশির ভাগ মানুষ পানির ভিতর জীবন- যাপন করছে। দূর্যোগের সময় নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সংসারের মালামাল নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা,শুকনা খাবার সংরক্ষণ, বহন যোগ্য চুলা, শুকনা কাঠ সংগ্রহ, ঘরবাড়ী মেরামত ইত্যাদি কাজ নারীদের করতে হয়। দুর্যোগের ফলে কি কি ক্ষতি হতে পারে, কি ক্ষতি হওয়া সম্ভাবনা আছে তা আমাদের আগে থেকে জানতে হবে। সচেতনতার কোন বিকল্প নাই। পরিবারে নারীদের আগে সচেতন হতে হবে।

বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকার। আমাদের সমাজটা হচ্ছে পিতৃতান্তিক। এখানে পুরুষদের প্রাধান্য বেশী। আগের দিনে মহিলারা গৃহকাজে ব্যস্ত থাকতো। বর্তমানে নারীরা গৃহকর্ম ছেড়ে বাইরে কাজ করছে। নারী ক্ষমতায়ন হচ্ছে রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশ গ্রহণ। নারী অধিকার হচ্ছে যা একান্তভাবে নিজস্ব মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বাঁচতে শেখায়। এই অধিকার গুলো সব নারীরা সমান ভাবে ভোগ করতে পারবে। কিছু কিছু অধিকার আমাদের সমাজ বেঁধে দেয় আবার কিছু অধিকার আমাদের আদায় করে নিতেহয়। নারী পুরষের যে বৈষম্য আমাদের পরিবার থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে বিরাজ করছে। গ্রামীণ নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাব। নারী অধিকার সচেতনতার লক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক অফিস থেকে তাদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যৌতুক, বাল্যবিবাহ, সম্পত্তিন অধিকার, পারিবারিক আইন, পারিবারিক নির্যাতন রোধ সহ সকল প্রকার সহিংসতার বন্ধে আমরা নারীদের জন্য সহযোগিতা করছি। নারীদের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের পাশা-পাশি তাদের সিদ্ধান্ত ও মতামত গ্রহণ, চাকুরীর স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকতে হবে। নারীরা শিক্ষিত বা চাকুরী করলে নারী ক্ষমতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। মোট কথা নারীকে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

পরিশেষে, উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।