জুজখোলা কেন্দ্রে জ্ঞান বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ এডুকেশন সোসাইটি (বিএফইএস) পৱিচালিত জুজখোলা আইসিটি এন্ড কমিউনিটি ক্লাইমেট কেয়ার সেন্টাৱেৱ উদ্যোগে ২৩ জুলাই ২০১৪ ইং তারিখ সকাল ১১ টায় এক জ্ঞান বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতির্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলাকার প্রবীণ ব্যাক্তিত্ত ও প্রাক্তন শিক্ষক মো:গিয়াসউদ্দিন ফরাজী। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মো: মোহাসিন শেখ। সভার শুরুতে শ্যামলী বেপারী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভা শুরু করেন।

সভায় প্রধান অতির্থী গিয়াসউদ্দিন ফরাজী বলেন, আজকের পরিবেশের সাথে অতীতের পরিবেশের অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। আগে আমাদের দেশে ৬ টি ঋতু দেখা যেত বতমানে এদেশকে ৬ ঋতুর দেশ বলা যায়না । আমারা অতীতে দেখেছি আমাদের এলাকায় এতটা গরম ছিলনা । কিন্তু বর্তমান সময়ে গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরম অনুভূত হয়। অসময়ে ঝড়, বন্যা দেখা দেয়। আমার কাছে আগের আবহাওয়ার সাথে বর্তমান সময়ে বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আমরা অতীতে বড় বড় নদী দেখতে পেতাম। বর্তমানে নদী গুলো আছে , কিন্তু নদী খালে পরিণত হয়েছে। নদী গুলো ভরাট হয়ে ছোট হয়ে গেছে। আগে এসব অনেক নদীতে প্রচুর মাছ ছিল, নৌকায় যাবার সময় মাছ গুলো নৌকার উপরে লাফিয়ে উঠত। এসব মাছের মধ্যে রুই,কাতল,শিং, মাগুর, বোয়াল, শোল উল্লেখযোগ্য । বর্তমানে এসব মাছ তো পাওয়া যায়না। কিছু ফসলী জমি পানিতে সারা বছর প্লাবিত হয়ে থাকে। লবন পানি আগে এখান কার নদীতে আসতনা । বর্তমানে জোয়ারের লবন পানি আসে। যার কারনে আমাদের এলাকার মাটি লবনাক্ত হয়েছে। এর ফলে আগের মতন ফসল হচ্ছে না। তবে আমাদের এলাকায় ইরি মৌসুমে প্রচুর ইরি ধান চাষ করা হয়। অতীতে এরকম দেখা যেতনা।

সভায় তিনি আরও জানান, বর্তমানের বাহির থেকে আসা বিভিন্ন ফলে ফরমালিন ব্যবহার করার কারনে তা গ্রামের সাধারন মানুষও তা খেতে ভয় পায়। সব কিছু মিলে আমরা আগের মতন ভেজাল মুক্ত খাবার খেতে পারিনা । এসব কারনে বর্তমানে বিভিন্ন নাম না জানা রোগে আমাগের এলাকার লোক আক্রান্ত হচ্ছে। যা অতীতে দেখা যেতনা।

পরিশেষে সভাপতির বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে জ্ঞান বিনিময় সভার সমাপ্তি ঘটে। সভায় মোট ২৬ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।