সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

Image0854

বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ এডুকেশন সোসাইটি (বিএফইএস) কর্তৃক পরিচালিত সোনাডাঙ্গা আইসিটি এন্ড কমিউনিটি ক্লাইমেট কেয়ার সেন্টারের উদ্যোগে গত ২৪ জানুয়ারী ২০১৫ ইং তারিখ বিকাল ৩টায় আদর্শ পল্লীতে কমিউনিটি সদস্যদের সাথে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২৯জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন এবং সভাপতিত্ব করেন ফারজানা আক্তার। শুরুতে ডাটা অ্যাসিসট্যান্ট নওরীন আকতার বলেন যে, দুর্যোগের সময় কমিউনিটি সদস্যদের ভূমিকা কেমন হবে তা আমরা আগেই জেনেছি। আমরা ইতমধ্যে ইয়ুথ গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে এলাকায় একটি ব্লাড গ্রুপিং ডাটাবেজ করেছি। আজকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে জানব।

এরপর সেন্টার ম্যানেজার রিসোর্স পারসন আলহাজ্ ডা: জাহিদ হোসেন কে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন যে, ডা: জাহিদ একজন সরকারী কর্মকর্তা, তিনি বিভিন্ন উপজেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। খুলনায় তিনি দরিদ্র মানুষের কাছে খুবই পরিচিত। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি আমাদের এই কর্মসূচীর কথা জেনে এসেছেন। আমরা আজ তার কাছ থেকে প্রথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে শুনবো।

সভায় রিসোর্স পারসন আলহাজ্ ডা: জাহিদ হোসেন বলেন, এধরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী এই এলাকায় করা হচ্ছে এবং ইতমধ্যে আপনারা একটি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন এর কাজ সম্পন্ন করেছেন জেনে খুবই আনন্দিত হয়েছি। মূলত, আমি আপনাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে এসেছি। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমারও অনেক কিছু জানার আছে। পেশাগত কারণে আমার ব্যস্ততা আছে কিন্তু তারপরও সামাজিক দায়াবদ্ধতা থেকে আমার এখানে আসা উচিৎ ছিল বলে আমি মনে করি।

এরপর তিনি বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড হল আঘাতপ্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে সাধারণ জ্ঞানের উপর নির্ভর করে অস্থায়ী চিকিৎসা বিশেষ। দূর্ঘটনাজনিত কোন কারণে আরো গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ততা ও সঙ্কটাপন্ন হবার হাত থেকে রোগীকে বাঁচাতে প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে ভূক্তভোগী ব্যক্তিকে অস্থায়ীভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্যে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এর ফলে রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্যে তেমন কোন যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়ে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যে-কোন স্থানে ও সময়ে দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। জরুরী চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার উপর আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এর ফলে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থানে তথ্য প্রেরণ করেন ও অ্যাম্বুলেন্স আসার পূর্ব পর্যন্ত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এখানে ইয়ুথ গ্রুপের সদস্যদের এই প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে। এসময় তিনি এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি কেন্দ্রের ইয়ুথ সদস্যদের মধ্যে বাছাইকৃত একটি গ্রুপকে প্রশিক্ষণ দেয়ার অনুরোধ জানান।

এরপর তিনি পানিতে ডুবে গেলে, আগুনে পুড়ে গেলে, হাত-পা কেটে গেলে, সাপে কামড়ালে কি কি করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া প্রতিটি সেন্টারে এক্তি করে ফার্ষ্ট এইড বক্স রাখার অনুরোধ জানান।

পরিশেষে সভাপতি ফারজানা আক্তার সভায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়া এবং উক্ত আলোচনার উপর ভিত্তি করে ইয়ুথ গ্রুপ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও ফার্ষ্ট এইড বক্স প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।